কৃমি দূর করার উপায় কার্যকারী ৬ উপায়ে ঘরোয়া টোটকা জেনে নিন

কৃমির সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা কোন অংশেই কম নয়। বেশিরভাগ বাড়িতেই এই সমস্যা আক্রান্ত মানুষ দেখা যায়। তবে বেশিরভাগ মানুষ এই সমস্যা নিয়ে তেমন মুখ খুলতে চান না।  মনে করেন হয়তো এই সমস্যা নিয়ে কাউকে কিছু বললে হাসির খোরাক জমবে । 

কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না এই সমস্যা গোপনে চেপে রাখলে আপনারই ক্ষতি। তাই যত দ্রুত সম্ভব নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসুন কেউ আপনাকে এই সম্বন্ধে খারাপ কথা বলবে না এমনকি ভাববেও না। তাহলে চলুন দেখে নেই কৃমি দূর করার উপায়।

কৃমি দূর করার উপায়

কৃমি আমাদের অন্ত্রে বেশিরভাগ সময় বাসা বাঁধে। কৃমি নানা ধরনের হতে পারে। কৃমির সমস্যা কি মানুষ বেশি গুরুত্ব দেয় না ।তবে কৃমির সমস্যা থেকে দেখা দিতে পারে নানা রকম শারীরিক জটিলতা। তাই কৃমি নিয়ে আমাদের একদমই অবহেলা করা উচিত নয়। 

বিভিন্ন ধরনের কৃমি হতে পারে। এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে আমরা জানবো কৃমি কি কি ধরনের হয় এবং কৃমির কারণে কি কি শারীরিক জটিলতার সৃষ্টি হয়। সেই সাথে আরো জানবো কৃমি দূর করার উপায়। তাহলে চলুন কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।

পেজ সূচিপত্রঃ কৃমি দূর করার উপায় কার্যকারী ৬ উপায়ে ঘরোয়া টোটকা জেনে নিন 

কৃমি কিভাবে শরীরে প্রবেশ করে

হাত না ধুয়ে অপরিষ্কারভাবে সেই হাত মুখে দিলে কৃমি হতে পারে। খাবারের সাথে শরীরে কৃমি প্রবেশ করতে পারে। তাই সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা উচিত। সেই সাথে সব সময় উচিত পরিচ্ছন্ন খাবার খাওয়া। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবস্থা, দূষিত পানির ব্যবহার করা, অপরিষ্কার থাকা। 

টয়লেট শেষে ভালোমতো হাত না ধোয়া, দাঁত দিয়ে নখ কাটার বদ অভ্যাস থাকা, খাবার তৈরি করার সময় কিংবা তা গ্রহণের আগে হাত ভালোমতো পরিষ্কার না করা। এসব কারণেই মূলত কৃমি হয়ে থাকে।

কৃমি হওয়ার লক্ষণ

আমাদের মধ্যে যে সমস্ত শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় তার মধ্যে খুবই সাধারণ একটি বিষয় হচ্ছে পেটব্যথা। অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি না কি কারনে পেট ব্যথা হচ্ছে। এমনকি অনেক সময় খাবারে কোনরকম অনিয় ম না করা সত্ত্বেও পেটব্যথা হয়। 

স্বাস্থ্যবিধি ঠিক রেখে চলেও কখনো কখনো পেট কামড়ে ধরে ব্যথা শুরু হয়। অনেক সময় হজমজনিত সমস্যার কারণে পেটে ব্যথা হতে পারে কিন্তু এরকম সমস্যার যদি অনেকদিন ধরে চলতেই থাকে তাহলে সেটা অবহেলা করা উচিত নয়। সে ব্যথার কারণ হতে পারে আপনার কৃমি থাকার কারণে। চলুন দেখে নেই কি কি লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে হবে যে আমাদের কৃমি হয়েছে।

  • ‌ বেশিরভাগ সময়ে পেটের মধ্যে গ্যাস জমে থাকা অথবা ফেঁপে থাকা।
  • ‌ হঠাৎ করেই শরীরের ওজন কমে যাওয়া।
  • ‌ শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেওয়া।
  • ‌ সব সময় কাশি লেগে থাকা।
  • ‌ তলপেটে ব্যথা অনুভূত হওয়া।
  • ‌ ডায়রিয়ার মত সমস্যা এবং বমি হওয়া।
  • ‌ সব সময় শরীরে ক্লান্তি অনুভব করা।
  • ‌পায়খানার রাস্তায় চুলকানো।

এ সকল সমস্যা দেখা দিলে বুঝতে হবে যে আপনার কৃমি হয়েছে। লক্ষণ গুলো দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

কৃমির বিভিন্ন ধরন ও সৃষ্ট সমস্যা

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকার কৃমির আক্রমণ দেখা যায় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গোল কৃমি, ফিতা কৃমি ও গুড়া কৃমি। গোল কৃমি কখনো কখনো শিশুদের আক্রমণ কালে নাক দিয়ে মুখ দিয়েও বেরিয়ে আসে।

গোল কৃমি শিশুর শ্বাসনালিত প্রবেশ করতে পারে। শিশুর অন্তরে বা পিত্তথলিতে এটি নানা রকম সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। পিতা কৃমি শিশুর অন্তরে রক্তপাত ঘটায়। শিশু ধীরে ধীরে ফিতা কৃমির আক্রমণে রক্তশূন্য হয়ে পড়তে পারে। তবে পায়খানার রাস্তায় চুলকানির জন্য দায়ী কৃমি হচ্ছে গুড়া কৃমি।

দীর্ঘমেয়াদি আক্রমণের ফলে শিশুর বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। খাদ্যে অরুচি থেকে শুরু করে শিশুর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। শিশুর শারীরিক এবং মানসিক বিকাশে বাধার সৃষ্টি হয় ।

কৃমি দূর করার চিকিৎসা

শিশুদের সাধারণত কৃমির চিকিৎসা হিসেবে Albendazole বা mebendazole দেওয়া হয়। এছাড়া পিরেন্টাল পামোটে জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করে কৃমির সমস্যা দূর করা হয়। বাংলাদেশ ে বছরে জাতীয় টিকা দিবসে দুবার পোলিও টিকার পাশাপাশি এক বছরের শিশুদের থেকে ৫ বছরের শিশুদের পর্যন্ত কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়ানো হয়।

কৃমি দূর করার উপায়

লবঙ্গ:

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় লবঙ্গর গুণ সবসময়ই প্রাধান্য পেয়ে এসেছে। কৃমি দূর করতে দিনে ৩-৪ বার লবঙ্গ চূর্ণ করে খেতে পারেন। তাহলে দেখবেন আপনার কৃমির সমস্যা দূর হয়ে গেছে।

আদা:

অত্যন্ত উপকারী একটি ভেষজ ঔষধি গুনসম্পন্ন উপাদান হচ্ছে আদা। এটি যে কোন পেটের সমস্যার বিরুদ্ধে দারুণ কাজ করে থাকে। আদা দিয়ে চা বানিয়ে খেতে পারেন। এছাড়া আদার কুচি করে তার সাথে লবণ মাখিয়ে খেতে পারেন। এতে করে কৃমির বিরুদ্ধে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।

কালোমেঘ পাতা:

কালমেঘ পাতার অনেক রকম গুণ রয়েছে। কালমেঘ পাতা চিবিয়ে খেতে পারলে কৃমি নিরাময়ে খুব ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে যাদের চিবিয়ে খেতে সমস্যা হয় তারা পানি দিয়ে গিলে খেতে পারেন।

নিম পাতা:-পেটের যেকোনো সমস্যার জন্য নিম পাতা অত্যন্ত কার্যকরী। কৃমির সমস্যা দেও নিমপাতা দারুন ভাবে কাজ করে। নিম পাতা বেটে তার থেকে রস বের করে আপনি সরাসরি খেতে পারেন। স্বাদে নিমপাতা তিক্ত হওয়ায় আপনি পানিতে মিশিয়ে হালকা করে খেতে পারেন। এছাড়া মধুর সাথে মিশিয়েও নিম পাতা খেতে পারেন। আপনার কৃমির জন্য সবচাইতে ভালো কার্যকরী উপাদান হচ্ছে নিমপাতা।

পেঁপে:-পেঁপে টিমের সমস্যা দূর করতে কার্যকরী একটি ফল। এক গ্লাস দুধে কাঁচা পেঁপে টুকরো করে এবং তার সাথে হলুদ মিশিয়ে খেয়ে নিন। এতে করে আপনার কৃমির সমস্যা দূর হয়ে যাবে। এটি আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের বাছাই করা একটি ঔষধ।

জোয়ান:

আমরা জানি যে অম্বলের সমস্যায় জোয়ান একটি ভালো উপকারী উপাদান। তাহলে জেনে রাখুন জোয়ানের মধ্যে থাকা গুণগুলো আপনার কৃমির সমস্যা কমাতে পারে। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে সামান্য পরিমাণে হলেও জোয়ান খেতে পারেন।

কুমড়োর বীজ:

কৃমি থেকে মুক্তির জন্য কুমড়োর বীজ এর ব্যাবহার অত্যন্ত ভাল একটি ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি। কুমড়ার বীজে বেশ কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে যেগুলো আমাদের শরীরের ভিতরে থাকা কৃমি ধ্বংস করতে পারে। কুমড়ার বীজ চূর্ণ করে তাতে এক সমপরিমাণ নারকেলের দুধ ও জল মিশিয়ে নিন। 

এরপর এই প্রাণীটি সকালবেলা উঠে খালি পেটে পান করুন। প্রায় সপ্তাহখানে ক এটি ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার কৃমি সমস্যা দূর হয়ে যাবে। এছাড়া কুমড়োর বীজ অনেকেই শারীরিক নানা সমস্যার জন্য খেয়ে থাকেন।

কৃমি  প্রতিরোধে করণীয়

  • ‌বাসা বাড়ি যেকোনো কাজে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করার অভ্যাস করতে হবে।
  • ‌টয়লেটের পরে ও খাবারের আগে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।
  • ‌স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
  • ‌শিশুদের হাতের নখ বেশি বড় রাখা যাবে না এবং দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস পুরোপুরিভাবে পরিহার করতে হবে।
  • ‌কৃমিনাশক ঔষধ সময় মত গ্রহণ করতে হবে।

আশা করছি উপরোক্ত বিষয়গুলো মেনে চললে কৃমি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

কৃমি দূর করার উপায় সম্পর্কে সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হল

১.কৃমি কাদের জন্য বেশি মারাত্মক?

প্রত্যেকটা মানুষেরই কৃমি সমস্যার সৃষ্টি করে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে কৃমি একটি মারাত্মক সমস্যা। তাই এ বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত।

২.বড়দের কি কৃমি হয়?

অবশ্যই বড়দেরও কৃমি হয়। নানা রকম শারীরিক জটিলতা এড়াতে বড়দেরও নিয়মমাফিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

৩.মিষ্টি বেশি খেলে কি কৃমি হয়?

মিষ্টি বেশি খেলে কৃমি হয় না। তবে অপরিষ্কার যে কোন খাবারের কারণেই কৃমির সংক্রমণ ঘটতে পারে।

শেষ কথাঃকৃমি দূর করার উপায় কার্যকারী ৬ উপায়ে ঘরোয়া টোটকা জেনে নিন 

আমাদের দেশে কৃমি সংক্রমণ খুবই সাধারণ একটি বিষয়। যদিও প্রেমের সংক্রমণের উপসর্গ খুব ভালোভাবে প্রকাশ পায় না। তাই এর হালকা উপসর্গকে সবাই অনেকেই উপেক্ষা করে। কিন্তু কৃমির সমস্যা বেড়ে যাওয়ার আগেই আমাদের সকলের সচেতন হওয়া উচিত। 

এতে করে নানা রকম শারীরিক সমস্যার হাত থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব। যদি শারীরিক কোন সমস্যা বা জটিলতা দেখা দেয় তবে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। তবে ক্রিমির সংক্রমণ রোধে উপড়ে উক্ত বিষয়গুলো মেনে চললে অনেকটাই কৃমির হাত থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব। 

আশা করছি উক্ত আর্টিকেলটি আপনাদের কৃমি দূর করার উপায় সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা দিতে পেরেছি। ধন্যবাদ সময় নিয়ে আর্টিকেল টি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url