লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত - লাইলাতুল কদর সম্পর্কে হাদিস

লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত, আল্লাহ রাব্বল আলামীন লায়লাতুল কদরে কুরআন কারীম অবতীর্ণ করেন। এই রাত্রিকে লায়লাতুল মুবারকও বলা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ“নিশ্চয়ই আমি এটা অবতীর্ণ করেছি এক মুবারক রজনীতে"। লাইলাতুল কদর ও লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত সম্পর্কে হাদিস সম্পর্কে জানতে পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন।

লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত, আল্লাহ রাব্বল আলামীন লায়লাতুল কদরে কুরআন কারীম অবতীর্ণ করেন। এই রাত্রিকে লায়লাতুল মুবারকও বলা হয়েছে

সূচিপত্রঃ লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত - লাইলাতুল কদর সম্পর্কে হাদিস

লাইলাতুল কদর অর্থ কি? লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত

লায়লাতুল কদর আরবি শব্দ হতে এসেছে,কদর শব্দের অর্থ ভাগ্য যার থেকে তকদির কথাটির উৎপত্তি এবং লায়লাতুল অর্থ রাত। আবার কদর শব্দের অর্থ ও মহিমান্বিত ও মর্যাদাপূর্ণ। এটির অভিধানিক অর্থ হলো ভাগ্য রজনী বা মর্যাদাপুর্ণ রাত।

লাইলাতুল কদর সূরা বাংলা। লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ اِنَّاۤ اَنْزَلْنٰهُ فِىْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ ' লায়লাতুল কদর বা শবে কদরের এক রাত এক হাজার মাস হতে শ্রেষ্ঠ'। অর্থাৎ অন্যান্য সময় এক হাজার মাস এবাদত বন্দেগী করে যত সব পাওয়া যায়, তার থেকে কয়েক গুণ বেশি শবে কদরের রাতের ইবাদত করে সব পাওয়া যায়।

আল্লামা সয়ুতি লুবাবুন তার নকুল গ্রন্থে লিখেছেন;রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বলেছেন,বনি ইসরাইলের এক ব্যক্তি এক হাজার মাস আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে কাটিয়েছিল।


এটা শুনে মুসলমানগন বিস্মিত হলো এবং আফসোস করে বলতে লাগলো যে আমরা কিভাবে এরকম নিয়ামত পেতে পারি? তখন এই সূরা নাযিল হয়;

দয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

সূরা নম্বরঃ ৯৭

নিশ্চয়ই আমি কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি মহিমান্বিত রজনীতে;

اِنَّاۤ اَنْزَلْنٰهُ فِىْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ

আয়াত নম্বরঃ ১

আর মহিমান্বিত রজনী সম্বন্ধে তুমি কী জান ?

ۚ
وَمَاۤ اَدْرٰٮكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِؕ

আয়াত নম্বরঃ ২

মহিমান্বিত রজনী সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

ۙ
خَيْرٌ مِّنْ اَلْفِ شَهْرٍؕ ۙ لَيْلَةُ الْقَدْرِ

আয়াত নম্বরঃ ৩

সেই রাত্রিতে ফিরিশতাগণ ও রূহ্ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাহাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে।

تَنَزَّلُ الْمَلٰٓٮِٕكَةُ وَالرُّوْحُ فِيْهَا بِاِذْنِ رَبِّهِمْ‌ۚ مِّنْ كُلِّ اَمْرٍ ۛ

আয়াত নম্বরঃ ৪

শান্তিই শান্তি, সেই রজনী ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত।

سَلَٰمٌ هِىَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ ٱلْفَجْرِ

আয়াত নম্বরঃ ৫

ঐ ব্যক্তি যে হাজারবার আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছিল লায়লাতুল কদর তার থেকে উত্তম। অন্য এক রেওয়ায়তে আছে যে,বনি ইসরাইলের এক ব্যক্তি রাত্রি হতে ভোর পর্যন্ত এবাদত করত আর সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধর্মের দুশমনদের সাথে যুদ্ধ করত। এক হাজার মাস কালীন সময় রূপ ইবাদত করেছিলেন তিনি।


উক্ত গল্প শুনে সাহাবীগণ আফসোস করেন। ঠিক তখনই আল্লাহর পক্ষ থেকে সূরা আল কদর নাযিল হয়। অর্থাৎ ওই হাজার মাস এবাদত ও জিহাদ করার থেকে কদরের রাত্রে ইবাদত করা সর্বোত্তম। তাই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেনঃ আমার প্রিয় সাহাবাগণ,এই পবিত্র রাত্রিটিকে কদর করো।

সামান্য পরিশ্রমে কত বেশি সওয়াব পাওয়া যায় ! বিশেষ করে এই রাতে দোয়া কবুল হয়। যদি সম্পূর্ণ রাত্রি জেগে থাকে না পারো তবে যতটুক সম্ভব জেগে থাকো। হিম্মতহারা হয়ে একদম মাহরুম থেকো না। আসুন নিচে জেনে নিন লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত।

লাইলাতুল কদর সম্পর্কে হাদিস। লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত


লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত জানার পুর্বে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে হাদিস গুলো আপনাদের জন্য তুলে ধরা হলো। এতে করে আপনারা লাইলাতুল কদর এর ইবাদত সম্পর্কে আরো মনযোগী হতে পারবেন। নিম্নে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে কিছু হাদিস উল্লেখ করা হলো-
  • যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমানের সাথে সোয়াবের আশায় রাত জাগবে তার পিছনের সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমান সহ সোয়াবের আসায় রমজানের সিয়াম পালন করবে তার অতীতের সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (বুখার/ ১৭৭৫-আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত)।
  • রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বলেছেনঃ তোমরা রমজান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদরের সন্ধান করো। (বুখারী/১৮৮৫-আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত,১০৮৪)।রমজান মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম বলতেনঃ তোমাদের কাছে এ মাসে এসেছে। আর এতে রয়েছে এমন এক রাত যা হাজার মাসের থেকে উত্তম।
  • এ থেকে বঞ্চিত ব্যক্তি সমস্ত কল্যাণ থেকে বঞ্চিত ।এর কল্যাণ থেকে যে ব্যক্তি বঞ্চিত সে প্রকৃতপক্ষে বঞ্চিত।(ইবনে মাজাহ/১৬৪৪-আ,ই,মালিক(রাঃ)।হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) প্রমুখ সাহাবী হতে বর্ণিত আছে যে, লায়লাতুল কাদরে সমগ্র কুরআন লাওহে মাহফুয হতে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয়েছে। তারপর ঘটনা অনুযায়ী দীর্ঘ তেইশ বছরে ধীরে ধীরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর উপর অবতীর্ণ হয়েছে।
তারপর আল্লাহ তা'আলা লায়লাতুল কাদরের শান শওকত ও বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে বলেনঃ এই রাত্রির এক বিরাট বরকত হলো এই যে, এ রাত্রে কুরআন মজীদের মত মহান নিয়ামত নাযিল হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে নবী (সঃ) লায়লাতুল কাদর কি? তা কি তোমার জানা আছে? লায়লাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রঃ) তাঁর জামে গ্রন্থে এই সূরা-কদর এর তাফসীরে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত হাসান ইবনে আলী (রাঃ) আমীর মুআবিয়ার (রাঃ) সঙ্গে সন্ধি করার পর এক ব্যক্তি হযরত হাসান (রাঃ) কে বললেনঃ “আপনি ঈমানদারদের মুখ কালো করে দিয়েছেন।”

অথবা এভাবে বলেছিলেনঃ “হে মু'মিনদের মুখ কালোকারী।” একথা শুনে হযরত হাসান (রাঃ) বলেনঃ “আল্লাহ তা'আলা তোমার প্রতি রহম করুন! তুমি আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ো না। রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে দেখানো হয়েছে যে, তার মিম্বরে যেন বানূ উমাইয়া অধিষ্ঠিত হয়েছে।

এতে রাসূলুল্লাহ (সঃ) কিছুটা মনক্ষুন্ন হন। আল্লাহ তা'আলা তখন সূরা-কদর অবতীর্ণ করেন। এর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে জান্নাতে হাউযে কাওসার দান করার সুসংবাদ প্রদান করেন। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম রমজান সম্বন্ধে বলেছেন যেঃ'তোমাদের নিকট এমন একটি মাস আছে যাতে এমন একটি রাত আছে যার মূল্য এক হাজার মাস হতেও অধিক।

"যে ব্যক্তি এ রাতের ফজিলত ও বরকত হাসিল করতে পারবে না সে সমস্ত খায়ের-বরকত হতে মাহরুম থাকবে।বস্তুতঃএই রাতে যে কিছু মাত্র ইবাদত-বন্দেগি করবে না, তারচেয়ে দৃ দুরদৃষ্ট কেউই নেই।"
হাদীস শরীফে এসেছে যে,'বিশেষ কোনো হেকমতের কারণে আল্লাহতালা তোমাদেরকে শবে কদরের রাত্রিটি নির্দিষ্ট করে জানায়নি। 

অতএব তোমরা রমজান শরীফের শেষ সাত রাত্রিতে লায়লাতুল কদরের অনুসন্ধান করো।অর্থাৎ এই সাতটি রাত্রি জেগে থেকে আল্লাহ তাআলার ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকা উত্তম।

লাইলাতুল কদর 2023 কবে। লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত

হাদীস শরীফে এসেছে শবে কদর প্রত্যেক রমজান মাসে হয় এবং এটাও এসেছে যে রমজানের ২৭ শে শবে কদর হয়।(আবু দাঊদ)


শবে কদরের তার সম্বন্ধে অনেক মতভেদ আছে কিন্তু সাতাশ এর রাত্রে যে শবেকদর হয় এটা সর্বাপেক্ষা অধিক মাননীয়তো। সব থেকে উত্তম হচ্ছে যে,শক্তি এবং সাহস থাকলে শেষ দশটি রাত্রির জাগ্রত থাকা। এর বিশেষত্ব হচ্ছে;এই বিজোড় রাত গুলোর মধ্যে অধিক পরিমাণে এবাদত-বন্দেগি এবং আল্লাহর ইবাদতের দিকে রুজু হওয়া উচিত।

অনেকেই মনে করেন যে হয়তো আলো বা অন্যকিছু হয়তো এ রাতে দেখা যায় কিন্তু কোন কিছু দেখার যাওয়া প্রয়োজনীয় নয়,মনেপ্রাণে অবরোধ করলে রাত্রে বরকত পেতে পারেন। ২০২৩ সালে রমজান বাংলাদেশে শুরু হয়েছে ২৪ মার্চ।

অর্থাৎ,লাইলাতুল কদর 2023 ১২ এপ্রিল বা ২০ রমজানের পর হতে বিজোর রাত গুলোতে লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান করতে হবে এবং উক্ত বিজোর রাতগুলো জেগে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত-বন্দেগী করতে হবে,কেননা লাইলাতুল কদর এই কয়েক বিজোর রাতেই রয়েছে।

লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত

লাইলাতুল কদরের রাতে এশার পর থেকে ভোর অর্থাৎ সুবহে সাদিক পর্যন্ত ইবাদত-বন্দেগি করতে হয়। শুধু নফল নামাজই নয় বরং ওমরী কাযার নামাজ পড়া কুরআন তিলাওয়াত করা, হাদিস তাফসির বা অন্য যে কোনও দ্বীনী কিতাব পড়া,জিকির করা,ইসলাম নিয়ে সবার সাথে আলোচনা করা কিংবা তওবা ইস্তেগফারে মশগুল থাকা উচিত।

লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত হচ্ছে-
 
আরবীঃ نويت ان اصلي لله تعالى وقات الصلاه ليله القدر سنه رسول الله تعالى متوجها علاجيه الكعبه الشريفه الله اكبر

লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত এর বাংলা অনুবাদঃ নাওয়াইতু আন্‌ উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রাকআতাই সালাতিল লাইলাতিল কাদ্‌রি নফ্‌লে মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি- আল্লাহু আকবর।

অর্থঃআমি কাবামুখী হয়ে আল্লাহর (সন্তুষ্টির) জন্য শবে কদরের দুই রাকআত নফল নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম- আল্লাহু আকবর।

লাইলাতুল কদরের নামাজ কিভাবে পড়বেন। লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত

লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত অন্যন্য নফল নামাজের মতোই। লাইলাতুল কদরের নফল নামাজ দুই রাকাত করে মোট ৪ রাকাত পরতে হয়। উক্ত ৪ রাকাত নামাজ পরার পর আপনার যতো ইচ্ছা নফল নামাজ আদায় করতে পারেন।

দুই রাকাত লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়মঃ নামাজের নিয়ত করে সানা-তাশাহুদ পাঠ করার পর প্রতি রাকাতে সূরা-ফাতিহার পরে একবার সুরা-কদর ও ৩ বার সূরা-ইখলাস।

দুই রাকাত করে ৪ রাকাত নফল নামাজের নিয়মঃ 

নামাজের নিয়ত করে সানা-তাশাহুদ পাঠ করার পর প্রতি রাকাতে সূরা-ফাতিহার পরে সূরা-কদর ১ বার ও ইখলাস ২৭ বার পরতে হবে।এই নিয়মে নামাজ আদায় করা খুব বেশি জরুরী নয়।কাজেই এই নিয়ম না মানলে কোন হ্মতি নেয়।

দুই রাকাত করে ৪ রাকাত নামাজের নিয়মঃ

নামাজের নিয়ত করে সানা-তাশাহুদ পাঠ করার পর প্রতি রাকাতে সূরা-ফাতিহার পরে সূরা-কদর ৩ বার ও সূরা-ইখলাস ৫০ বার পড়া উত্তম।এছাড়া সুবিধামত যে কোন সূরা মিলিয়ে পড়া যায়, এতে কোন প্রকার সাওয়াব কম হবে না।


মকসুদোল কাসেদীন নামক কিতাবে লিখিত আছে যে,লাইলাতুল কদরের রাত্রে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পরতে হয়,প্রত্যেক রাকাতে সুরা কদর তিনবার ও সূরা ইখলাস ১০ বার পড়তে হয়। ঐ কিতাবে আরো বলা আছে যে,কদরের রাত্রে ফজর হওয়া মাত্র ৪ রাকাত নফল নামাজ পরতে হয় ও প্রত্যেক রাকাতে সূরা কদর তিনবার ও সূরা ইখলাসন ৫০ বার পরতে হয়।

কোনো ব্যক্তি এইভাবে ৪ রাকাত নফল নামাজ আদায় করে সেজদায় যেয়ে 'সুবহানাল্লাহ' তাসবিহ ৪১ বার পাঠ করে আল্লাহর নিকট যা দোয়া করবে তাই কবুল হবে(ইনশাআল্লাহ)।

লাইলাতুল কদরের দোয়া। লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত

লাইলাতুল কদরের দোয়া হচ্ছে-

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারণঃ 'আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’

অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِيْنَ

উচ্চারণ : 'রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।'

অর্থঃ ‘হে আমার প্রভু! (আমাকে) ক্ষমা করুন এবং (আমার উপর) রহম করুন; আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ রহমকারী।' (সুরা মুমিনুনঃআয়াত ১১৮)

رَبِّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ فَاغْفِرْ لِيْ

উচ্চারণঃ'রাব্বি ইন্নি জ্বালামতু নাফসি ফাগফিরলি।'

অর্থঃ'(হে আমার) প্রভু! নিশ্চয়ই আমি নিজের উপর জুলুম করে ফেলেছি, অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।' (সুরা কাসাসঃআয়াত ১৬)

লাইলাতুল কদরের ফজিলত। লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত

লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের ফজিলতদা মহত্ব অপরিসীম। কুরআনে কারিমে এই রাত্রের মর্যাদা সম্পর্কে বলা হয়েছে ।কুরআনে বলা হয়েছে যে, এই রাতে কুরআন নাযিল হয়েছে এবং এ রাতে কুরআন নাযিলের সূচনা হয়েছিল তাই এই রাত একটি মহিমান্বিত রাত।

আমরা বলতে পারি সূরা দোকানে যে বরকতময় রাতে কুরআন নাযিল হওয়ার কথা বলা হয়েছে সে রাত্রি হলো লাইলাতুল কদর বা ভাগ্য রজনী। কারণ এই রাতটি এত অধিক পরিমাণে বরকতময় ও প্রাচুর্যময় যে অন্য আর কোনো রাতের কথা কোরআন মাজিদের কোথাও বলা হয়নি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু সাল্লাম এর হাদিসেও নয়।বলা যেতে পারে যে এ রাতে ফেরেশতাগণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকেন আর তা হলো সৃষ্টির ভাগ্য নির্ধারণ আগামী এক বছরের জন্য।অর্থাৎ লাইলাতুল কদর হচ্ছে ভাগ্য রজনী।

কেন লাইলাতুল কদরের রাত জাগতে হয়। লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত

লাইলাতুল কদরের রাত্রিতে জেগে থাকার মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে,আল্লাহর তায়ালার সন্তুষ্ট প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে সারা রাত্রি জেগে ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকা। তাছাড়া রমজানের শেষ দশ দিনের প্রতিটি বিজোর রাত গুলো জেগে থেকে আল্লাহর তায়ালার হুকুম অনুযায়ী লাইলাতুল কদরের রাত তালাশ করাও ইবাদতের বিষেশ অংশ।

কোন ব্যক্তির মধ্যে লাইলাতুল কদর ঠিক কবে হবে তা জানা অনেকটা কঠিন,আল্লাহ তায়ালা লাইলাতুল কদরের রাতটিকে সকলের কাছে গোপন রেখেছেন। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা আমাদের ধৈর্য্য ও একাত্যবাদ পরিহ্মা করার জন্য রমজানের শেষ ১০ দিনকে উল্লেখ্য করে দিয়েছে যে,এই ১০ রাতের যেকোন একটি বিজোর রাত্রিই হছে লাইলাতুল কদরের রাত।

লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত - লাইলাতুল কদর সম্পর্কে হাদিস

শেষ কথাঃ লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত - লাইলাতুল কদর সম্পর্কে হাদিস

আল্লাহ তায়ালা আমাদের কল্যানের জন্য ১২ মাসের মধ্যে একটি কল্যানকর মাস রমজান দান করেছেন এবং ৩৬৫ টি রাত্রির মধ্যে একটি সৌভাগ্যের রাত লাইলাতুল কদর দান করেছেন। প্রতিটি মুমিনের জন্য লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব অপরিসীম।

কেননা এই রাত্রিতে করা ইবাদত-বন্দেগী ১০০০ রাত্রির ইবাদত-বন্দেগী হতে কয়েক গুন উত্তম।আমাদের সকল ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য,লাইলাতুল কদর আল্লাহর পহ্ম হতে মুমীন্দের জন্য একটি বিষেশ নিয়ামত।

কেননা, এই রাতে আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দাদের সকল দোয়া শুনেন।লাইলাতুল কদরে মুনিনগন ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে সৌভাগ্য প্রাপ্ত্য হতে পারে। আশা করি লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ত এর অনুসন্ধান আপনার শেষ হলো। 😊



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url