জান্নাতি ২০ সাহাবীর নাম - জান্নাতের সুসংবাদ পেলেন যারা


আমি এখন আপনাদের সাথে আলোচনা করব "জান্নাতি ২০ সাহাবীর নাম - জান্নাতের সুসংবাদ পেলেন যারা" নিয়ে। এ ব্যাপারে রাসূলে করীম (সঃ)-এর পরিচয় ও প্রশংসা উল্লেখের পর তার সাহাবীদের পরিচয় স্বরূপ আল্লাহ্ তা'আলার এই কথাগুলো উদ্ধৃত হয়েছেঃ


জান্নাতি ২০ সাহাবীর নাম

"হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উম্মত তার অন্তর্ধানের পর মহান সত্যের দিকে আহ্বান জানাবে এবং সত্যষীন সহকারে সুবিচার ও ইনসাফ করবে। যারা তাদের সাহায্য করবে আমি তাদেরকে সম্মানিত করব। যারা তাদের জন্য দোয়া করবে আমি তাদেরকে সাহায্য দিব। যারা তাদের বিরুদ্ধতা করবে কিংবা তাদের উপর বিদ্রোহ করবে, অথবা তাদের হাতের কোন জিনিস কেড়ে নিতে ইচ্ছা করবে তাদেরকে চরম অকল্যাণ দ্বারা পরিবেষ্টিত করে ফেলব"। 


পেজ সূচিঃ জান্নাতি ২০ সাহাবীর নাম - জান্নাতের সুসংবাদ পেলেন যারা।


১। ভূমিকা।
২।  জান্নাতি ১০ সাহাবীর নামের তালিকা।
৩। জান্নাতি ২০ সাহাবীর নামের তালিকা।
৪। জান্নাতি ২০ সাহাবীর নাম এর অর্থ।
৫। কয়জন সাহাবী খিলাফতে রাশেদার খলিফা ছিলেন?
৬। ৪ জন সাহাবী খিলাফতে রাশেদার খলিফার নাম।
৭। ৪ জন জান্নাতি সাহাবীদের পরিচয় (সাহাবী খিলাফতে রাশেদার খলিফার নাম)।
৮। জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম।
৯। লেখকের মন্তব্য।

ভূমিকা।
আমাদের আজকের আর্টিকেল এর বিষয় হচ্ছেঃ "জান্নাতি ২০ সাহাবীর নাম - জান্নাতের সুসংবাদ পেলেন যারা"। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ তাআলা তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণে নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল করেন। আল্লাহ বলেন: "মুহাজির ও আনছারগণের মধ্যে অগ্রবর্তী সাহাবীগণ এবং কল্যাণকর্মের মাধ্যমে তাঁদের অনুসারীগণের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন। আর তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন (সুরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১০০)"


প্রথমোক্ত লোকদেরকে তাদের নবীগণের উত্তরাধিকারী বানাব, তাদেরকে আল্লাহর দিকে আহ্বানদাতা বানাব। তারা সত্য ও ন্যায়ের আদেশ করবে এবং অন্যায় ও মিথ্যা হতে নিষেধ করবে। তারা নামাজ কায়েম করবে, যাকাত আদায় করিবে, ওয়াদা পূর্ণ করবে আমি তাদের প্রথম পর্যায়ের লোকদের দ্বারা যে কল্যাণের সূচনা করেছি, তাদের দ্বারাই সেই কল্যাণকে পরিসমাপ্ত করব। 

এটি একান্তভাবে আমারই অনুগ্রহের ব্যাপার। যাকে ইচ্ছা আমি তাকেই এই অনুগ্রহ দেই। আর প্রকৃতপক্ষে আমিই মহান অনুগ্রহকারী।" (ইবনে আবু হাতিম অহব ইবনে মুনাব্বাহ হইতে ইবনে কাসীর-তাঁহার তাফসীরে)।

জান্নাতি ১০ সাহাবীর নামের তালিকা

সাঈদ ইবনে যায়িদ বর্ণনা করেন; আব্দুর রহমান ইবনুল আকনাস বলেন, যে তিনি যখন মসজিদে প্রবেশ করেন তখন একজন ব্যক্তি আলী (রাঃ)কে সালাম দেন। তখন সাঈদ ইবনে যায়িদ দাড়িয়ে গেলেন এবং বলেন আমি সাক্ষী দিচ্ছি যে আল্লাহর নবীকে বলতে শুনেছি, যে দশ জন লোক জান্নাতে যাবে তারা হচ্ছেনঃ

১। আবু বকর জান্নাতি।
২। উমর জান্নাতি।
৩। উসমান জান্নাতি।
৪। আলী জান্নাতি।
৫। তালহা জান্নাতি।
৬। যুবাইর ইবনুল আওয়াম জান্নাতি।
৭। আবদুর রহমান ইবনে আউফ জান্নাতি।
৮। সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস জান্নাতি।
৯। আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ জান্নাতি এবং।
১০। সাঈদ ইবনে জায়িদ জান্নাতি।


আমি কি দশম ব্যক্তির নাম বলব? তখন সবাই বলল; কে সে? তিনি নীরব থাকলেন। লোকেরা আবার বললঃ কে সে? তিনি বললেনঃ সে হলো সাঈদ ইবনে যায়িদ (সংগ্রহ আবু দাউদ, সুনান আবু দাউদ)।

জান্নাতি ২০ সাহাবীর নামের তালিকা

  1. হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ)
  2. হযরত ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ)
  3. হযরত ওসমান বিন আফফান (রাঃ)
  4. হযরত আলী বিন আবি তালিব (রাঃ)
  5. হযরত তালহা বিন ওবায়দুল্লাহ (রাঃ)
  6. হযরত জুবায়ের বিন আউয়াম (রাঃ)
  7. হযরত রহমান বিন আওফ (রাঃ)
  8. হযরত সাইদ বিন জায়েদ (রাঃ)
  9. হযরত আবি ওবায়দাতা (রাঃ)
  10. হযরত বিনুল যাররাহ (রাঃ)
  11. হযরত হামজা বিন আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ)
  12. হযরত আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ)
  13. হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ)
  14. হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ)
  15. হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসুদ (রাঃ)
  16. হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ)
  17. হযরত উরওয়া বিন মাসুদ (রাঃ)
  18. হযরত তোফায়েল বিন ওমর দাউসি (রাঃ)
  19. হযরত জিয়াদ বিন হারিদ  (রাঃ)
  20. হযরত তালহা বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ)
উপরের বর্ণিত প্রসিদ্ধ জান্নাতি ২০ সাহাবীর নাম। কারন আল্লাহর রসুল (সাঃ) তাদেরকে সর্ব প্রথম জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে ছিলেন। জান্নাতি ২০ সাহাবীকে আশারা মুবাশারা নামেও অ্যাখায়িত করা হয়।   

জান্নাতি ২০ সাহাবীর নাম এর অর্থ 

জান্নাতি ২০ সাহাবীর নাম অর্থ
আবু বকর সিদ্দিক তরুন উটের পিতা
ওমর সমৃদ্ধ, দির্ঘজিবী
ওসমান জ্ঞানি, শক্তিশালী
আলী উচ্চ, উচ্চতর
তালহা সর্গের ফলদায়ক গাছ
জুবায়ের সাহসী,মজবুত
রহমান দয়ালু
সাইদ নেতা
আবি পিতা
বিনুল বোঝা, ধারনা, সচেতনতা
হামজা হিংস, শক্তিশালী
আব্বাস হিংস
আব্দুল্লাহ আলাহর দাস
মাসুদ ভাগ্যবান, সমৃদ্ধবান, খুশি
হুরাইরা লালচে
উরওয়া হাত, সাহায্য, সাথ
তোফায়েল সঙ্গী
জিয়াদ অনেক বেশি

কয়জন সাহাবী খিলাফতে রাশেদার খলিফা ছিলেন?

৪ জন সাহাবী খিলাফতে রাশেদার খলিফা ছিলেন, নবী করীম (সাঃ) যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করিয়াছিলেন, তাঁর ইন্তেকালের পর হতে স্বয়ং তারই ঘোষণানুযায়ী এটির নূতন নামকরণ করা হইয়েছিল ''খিলাফতে রাশেদা''। খিলাফতে রাশেদা বাস্তবতঃ তাই যা আদর্শগতভাবে কুরআন ও সুন্নাহ বিধৃত রাসূলে করীম (সাঃ) নিজে তাঁর তেইশ বছরের নবুয়াতী জীবনে অবিশ্রান্ত সাধনা ও সংগ্রামের ফলে যে রাষ্ট্র ও সমাজ গঠন করে চালিয়ে গেছেন।


খিলাফতে রাশেদা সেটারি জের, তার দ্বিতীয় অধ্যায়। কুরআন ও সুন্নাহ যদি বীজ হয়, তালে খিলাফতে রাশেদা তার শাখা-প্রশাখা, পত্রপল্লব ও ফুলে ফলে সুশোভিত পূর্ণাঙ্গ বৃক্ষ। আর রাসূলে করীম (সাঃ)-এর আমল হল এই বৃক্ষের কাও বিশেষ। নবী করিম (সাঃ) এর মৃত্যুর পর যে সাহাবীগন রাষ্ট্র পরিচালনায় নিযুক্ত হন তাদের বলা হয় খলিফা, ইসলামে ৪ জন খলিফা ছিলেন এবং জান্নাতি ২০ সাহাবীর নাম এর তালিকায় তারা আছেন শীর্ষে। 

৪ জন সাহাবী খিলাফতে রাশেদার খলিফার নাম

  • হযরত আবু বকর (রাঃ)
  • হযরত উমর ফারুক (রাঃ)
  • হযরত উসমান (রাঃ)
  • হযরত আলী (রাঃ)

৪ জন জান্নাতি সাহাবীদের পরিচয় (সাহাবী খিলাফতে রাশেদার খলিফার নাম)

জান্নাতি ২০ সাহাবীর নাম এর তালিকায় যিনারা শীর্ষে আছেন তাদের পরিচয় সংহ্মিপ্ত আকারে দেওয়া হলো-

হযরত আবু বকর (রাঃ)

হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) রসুল (সাঃ) এর বন্ধু ও হযরত আয়েশা (রাঃ) এর পিতা। তিনি সর্বপ্রথম পুরুষ যিনি ইসলাম গ্রহন করেন। তাছারা, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর ইসলামী দাওয়াত ও আন্দোলনের ফলে যে ইসলামী সমাজ গঠিত হয়েছিল, হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর পরে উক্ত সমাজের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)। 


তাঁর এই শ্রেষ্ঠত্ব কেবল বিশ্বনবীর জীবদ্দশায়ই সমগ্র মুসলিম সমাজের নিকট সর্ববাদিসম্মত ছিল না, তাঁর অন্তর্ধানের পরেও গোটা মুসলিম দুনিয়ায় তিনিই ছিলেন অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠ পুরুষ। এই বিষয়ে অতীত যুগে ইসলামী সমাজের কোন কেন্দ্রেই এবং কখনই এক বিন্দু মতবৈষম্য পরিলক্ষিত হয়নি। এই ব্যাপারে মত বৈষম্যের কোন অবকাশ ও কখনো ছিল না।

হযরত উমর ফারুক (রাঃ)

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) স্বীয় জীবনের অকৃত্রিম সাধনার ফলে এক পূর্ণাঙ্গ আদর্শবাদী ও উন্নত চরিত্রবিশিষ্ট সমাজ গঠন করেছিলেন। তাঁর গঠিত সমাজের প্রতিটি ব্যক্তিই আদর্শবাদিতা ও নৈতিক চরিত্রের দিক দিয়ে ছিল। 

পর্বত-শৃংগের মত উন্নত, অন্যায় ও বাতিলের সম্মুখে অনমনীয় এবং বিরুদ্ধবাদীদের দৃষ্টিতে অত্যন্ত দুর্জয় ও দুর্ভেদ্য। প্রায় সকল সাহাবী সম্পর্কেই এই কথা পূর্ণ মাত্রায় সত্য ও প্রযোজ্য। কিন্তু তা সত্ত্বেও এটি অনস্বীকার্য যে কোমলতা, কঠোরতা, বিনয়, নম্রতা এবং সহিষ্ণুতার দিক দিয়া তাঁদের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান ছিল। 


এই পার্থক্য স্বভাবগত তারতম্যের কারণে এক বাস্তব সত্যরূপে স্বীকৃত। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা যখন হযরত উমর ফারক (রাঃ)-এর ব্যক্তি চরিত্র পর্যালোচনা করি, তখন আমাদের সম্মুখে এক অসাধারণ লৌহ-মানবের বিস্ময়কর ভাবমূর্তি সমুদ্রাসিত হয়ে উঠে। 

হযরত উমর (রাঃ) ইসলামী সমাজে এক অপরিসীম বীর্যবান, তেজোময়, নির্ভীক ও অনমনীয় ব্যক্তিত্বের অত্যুজ্জ্বল আদর্শ সংস্থাপন করেছেন। ইসলামী খিলাফতের বিশাল আকাশে তিনি এক দেদীপ্যমান চন্দ্রের সমতুল্য। খিলাফতের ময়দানে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও সমুন্নত। 

হযরত উসমান (রাঃ)

হযরত উসমান (রাঃ) খিলাফতে রাশেদা 'র তৃতীয় খলীফা। তিনি ছিনে রসুল (সাঃ) এর জামাই ও উম্মে কুলসুম (রাঃ) এর স্বামী। তাঁর ব্যক্তিগত চরিত্রে 'খলীফায়ে রাশেদ' হওয়ার সব বৈশিষ্ট্যই পূর্ণ মাত্রায় বর্তমান ছিল। তিনি স্বভাবতঃই পবিত্রচরিত্র, বিশ্বাসপরায়ণ, সত্যবাদী, ন্যায়নিষ্ঠ, সহনশীল এবং দরিদ্র-সহায় ছিলেন। জাহিলিয়াহ যুগের ঘোরতর মদ্যপায়ী সমাজে বসবাস করা সত্ত্বেও মদ্য ছিল তাঁর অনাস্বাদিত। রাসূলে করীম (সাঃ)-এর পবিত্র সাহচর্য তাঁর নৈতিক চরিত্রকে অধিকতর নির্মল, পরিচ্ছন্ন ও দীপ্তিমান করে তুলেছিল।

আল্লাহর ভয়ই নৈতিক চরিত্রের মূল উৎস। যাঁর মন আল্লাহর ভয়ে ভীত-কম্পিত নয়, সে না করতে পারে পাপ কার্যের উল্লেখ করা যায় না। হযরত উসমান (রাঃ) আল্লাহর ভয়ে সর্বদা কম্পিত ও অশ্রুসিক্ত থাকত। কবর দেখলে তিনি অস্থির হয়ে পড়তেন। 


তিনি প্রায়ই রাসূলে করীম (সাঃ)-কে উদ্ধৃত করে বলতেনঃ কবর হল পরকালীন জীবনের প্রথম পর্যায়। এই পর্যায়টি সহজে ও নিরাপদে অতিক্রম করা গেলে পরবর্তী সব কয়টি পর্যায়ই সহজে অতিক্রান্ত হবে বলে আশা করা যায়। পক্ষান্তরে এতে বিপদ দেখা দিলে পরবর্তী সব পর্যায়ই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

হযরত আলী (রাঃ)

হযরত আলী (রা) বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর আপন চাচাতো ভাই, হযরত ফাতেমা (রাঃ) স্বামী ও হাসান-হোসাইনের পিতা ছিলেন। নবী করীম (সাঃ)-এর নবুয়্যাত লাভের বছর হযরত আলীর বয়স ছিল মাত্র দশ বছর। তাঁর পিতা আবূ তালিব বহু সংখ্যক সন্তানের পিতা ছিলেন। আর্থিক অনটন ও দুর্ভিক্ষজনিত পরিস্থিতির দরুণ দারিদ্রের দুর্বহভাবে তিনি ন্যুব্জ হয়ে পড়ে ছিলেন। 

এই অবস্থা দেখে নবী করীম (সাঃ) তাঁর অপর চাচা হযরত আব্বাস (রাঃ)-এর সঙ্গে আবূ তালিবের দৈন্যভার লাঘবের করার উপায় সম্পর্কে পরামর্শ করেন। নবী করীম (সাঃ) তাঁকে বলেন, "চাচার দারিদ্র্য ও দুঃখ-কষ্ট আমাদের সমভাগে ভাগ করে নেয়া উচিত।" এই পরামর্শ অনুসারে হযরত আব্বাস (রাঃ) আবূ তালিব পুত্র জাফরের এবং নবী করীম (সাঃ) স্বয়ং হযরত আলীর লালন-পালনের সমস্ত দায়িত্ব নিজ কাধে তুলে নেন।


এই আবু তালিবের পুত্র হযরত আলী (রাঃ) বাল্যকাল হতেই নবী করীম (সাঃ)-এর সঙ্গী-সাথী ও সহচর হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠেন। এই কারণে নবুয়্যাত লাভের পর রাসুলে করীমের (সাঃ)-এর জীবনে পরিবর্তন সূচিত হওয়ার বিস্ময়কর দৃশ্যাবলী তিনি নিজ চক্ষে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ লাভ করেন। 

এই পরিবর্তন সম্পর্কে হযরত আলী (রাঃ)ই জিজ্ঞাসার জবাবে নবী করীম (সাঃ) যখন তাঁর নিকট তওহীদী দ্বীনের ব্যাখ্যা করেন এবং এর প্রতি ঈমান আনার আহ্বান জানান, তখনি তিনি দ্বিধাহীন চিত্তে ও উদ্দীপিত হৃদয়ে দ্বীন-ইসলামের প্রতি ঈমান আনেন।

জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত মহিলা সাহাবীদের নাম


আমারা সবাই প্রতিনিয়ত জান্নাত পাবার আশায় ইবাদত করে থাকে এবং মহান আল্লাহ তাআলার সকল আইন-কানুন আমরা জান্নাত পাওয়ার আশায় করে থাকি। প্রতিদিন আমরা নামাজ কালাম, রোজাসহ অন্যান্য ইবাদত ইবাদত করি। এর থেকে বেশি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সাহাবীরা সবসময় আল্লাহর এবাদত নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন।

১। উম্ম = অর্থঃ মা।
২। হাবিবা = অর্থঃ প্রিয়।
৩। আমাহ = অর্থঃ দাস।
৪। লায়লা = অর্থঃ নেশা।
৫। ঘুফাইরা = অর্থ ক্ষমা।
৬। মায়মুনা = অর্থঃ শুভ।
৭। রুমান = অর্থঃ ডালিম।
৮। নাহদিয়া = অর্থঃ আশা। 
৯। লুবাবা = অর্থঃ সারমর্ম।
১০। নাজিয়া = অর্থঃ নিরাপদ।
১১। ফাশাম = অর্থঃ প্রশস্ত, বড়।
১২। শিফা = অর্থঃ নিরাময়কারী।
১৩। হাফসা = অর্থঃ যুবতী সিংহ।
১৪। উমামা = অর্থঃ তিনশত উট।
১৫। খাদিজা = অর্থঃ অকাল শিশু।
১৬। বুহাইয়া = অর্থ সুন্দর, দীপ্তময়।
১৭। আয়সা = অর্থঃ জীবিত, সমৃদ্ধ।
১৮। আসমা = অর্থঃ সুন্দর, উচ্চতর।
১৯। হাজিমা = অর্থঃ অটল, সমাধান।
২০। সাফিয়া = অর্থঃ বিশুদ্ধ, পরিচ্ছন্ন।
২১। ফুকাইহা = অর্থ প্রফুল্ল আনন্দময়।
২২। রামলা = অর্থঃ বালির একটি দানা।
২৩। সুমাইয়া = অর্থঃ উচ্চ এবং বিশেষ।
২৪। রায়তা = অর্থঃ হাদিসের বর্ণনা কারী
২৫। সালমা = অর্থঃ নিরাপদ, শান্তি, সুস্থ।
২৬। জুমানা = অর্থঃ রূপালী রঙের মুক্তা।
২৭। রিয়াহ = অর্থ পাহাড় একটি ভ্রমণ পথ।
২৮। ফারওয়াহ = অর্থঃ ধন, সম্পদ, সমৃদ্ধি। 
২৯। হিন্দ = অর্থঃ উটের দল বা উটের পাল।
৩০। জামিলা = অর্থঃ সুন্দর এবং করুণাময়।
৩১। হালিমা = অর্থ ভদ্র মৃদু স্বভাবের মহিলা।
৩২। জুনাইরা = অর্থঃ জান্নাতে পাওয়ার ফুল।
 
৩৩। হালাহ = অর্থঃ চাঁদের চারপাশের আলো।
৩৪। বুশরাহ = অর্থ শুভ লক্ষণ, মুখ বা চেহারা।
৩৫। রুকাইয়া = অর্থঃ ভদ্র নরম মৃদু স্বভাবের।
৩৬। থুবাইতা = অর্থঃ প্রতিষ্ঠিত, স্থিতিশীল, অটুট।
৩৭। আমরাহ = অর্থঃ মাথার টুপি অথবা পাগড়ি।
৩৮। আমিনা = অর্থঃ সত্যবাদী, সৎ, বিশ্বাসযোগ্য।
৩৯। আতিকা = অর্থঃ উন্নত চরিত্র, সুন্দরী মহিলা। 
৪০। আরওয়া = অর্থঃ করুনাময়তা, সুন্দর, সৌন্দর্য।
৪১। সাহলা = অর্থঃ নরম, মসৃণ, প্রবাহিত, সাবলীল।
৪২। বারাকাহ = অর্থঃ আশীর্বাদ, অনুমোদন, প্রাচুর্য।
৪৩। লুবায়না = অর্থঃ খাঁটি, পরিস্কার, এবং বিশুদ্ধতা।
৪৪। হাম্মানাহ = অর্থঃ পবিত্র চড়ই বা স্বর্গীয় আশীর্বাদ চড়ই।
৪৫। আসিয়া = অর্থঃ যিনি দুর্বল মানুষদেরকে সাহায্য করেন।
৪৬। ফাতিমা = অর্থঃ যে শিশুকে বুকের দুধ ছাড়ানো হয়েছে।
৪৭। আতিলাহ = অর্থঃ জন্ম নেওয়া অথবা তেল আগত ব্যক্তি।
৪৮। জুয়াইরিয়া = অর্থঃ একজন তরুণী অথবা দামস্ক গোলাপ।
৪৯। রুমায়সা = অর্থঃ এক গুচ্ছ ফুল বা মরুভূমির ছোট গাছের গুচ্ছ। 
৫০। লুহাইয়া = অর্থঃ খুব সুন্দর উপহার, এমন কিছু কেউ জ্ঞানী বিচক্ষণ।
৫১। রুফাইদা = অর্থঃ সামান্য সাহায্যকারী এবং মানুষের একটি দল যা উপকারী। 
৫২। নুসায়বাহ = অর্থঃ সম্মানিত বংশের সাথে জন্মগ্রহণ করেন অথবা ভালো বংশের একজন। 


লেখকের মন্তব্যঃ জান্নাতি ২০ সাহাবীর নাম - জান্নাতের সুসংবাদ পেলেন যারা 

মুলত রসুল (সাঃ) এর সকল সাহাবী ছিলেন জান্নাতি, কেননা তারা রসুল (সাঃ) এর দাওয়াতে সারা দিয়ে আল্লাহর উপর ঈনান আনেন। তাঁরা সর্বদা সৎ পথে চলতেন যা আমাদের রসুল (সাঃ) আমাদের শিখিয়েছেন। সাহাবীদের অন্তরে ছিল আল্লাহর প্রতি ভয় ও শ্রদ্ধা। 


আশা করি আপনি জান্নাতি ২০ সাহাবীর নাম জেনে আপনার উত্তর পেয়ে গেছেন। এই ধরনের আরো আর্টিকেল পেতে আমাদের পোস্ট শেয়ার করে পাশেই থাকুন। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url