ভয় দূর করার উপায় - মানসিক ভয় দূর করার উপায় জানুন

ভবিষ্যতে কি হতে পারে?কোনো অমঙ্গল-অকল্যাণকর বিপদের সংশয় অথবা কষ্টের অনুভূতির আগাম চিন্তা করে মানসিকভাবে যে অস্বস্তি তৈরি হয় তাই হচ্ছে ভয়, আপনি কি জানেন না ভয় দূর করার উপায় কি? ভয়ের কারনে মানুষ যেকোনো সিদ্ধান্তে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে থাকে,ভয়ের বিষয়ে অন্যতম মুসলিম দার্শনিক শাহ্‌ ফরিদ আল-আহমদী বলেন যে,"পুরোসৃষ্টি জগতের ভিতরে সকল প্রানীর অন্তরে ভয় নামক অনুভূতি আছে,প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুকে ও বিপদকে ভয় পায়।"

ভয় দূর করার উপায়, মানসিক ভয় দূর করার উপায় জানুন

সূচিপত্রঃ ভয় দূর করার উপায় - মানসিক ভয় দূর করার উপায় জানুন

কি কারনে ভয় অনুভব হয়? ভয় দূর করার উপায়

বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী,ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারের মনোবিজ্ঞানী এবং ভীতি সংক্রান্ত এক বইয়ের লেখক ড. ওয়ারেন ম্যানসেল বলছেন, " ভয় হচ্ছে অভিব্যক্তিমূলক, এটা জীববিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত এবং এর মূল ব্যাপার হচ্ছে টিকে থাকা। ভয় ও জড়তা দূর করার উপায় জানতে সম্পুর্ন আর্টিকেল পড়ুন।  

যেকোনো ধরণের ভীতি বা ঝুঁকির মুখে পালানো বা ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আমাদের শরীরের একটা প্রস্তুতি থাকা দরকার।"

সমাজবিজ্ঞানী ড. মারগী কের বলেছেন, "ভয়ের কারণ দ্রুত শনাক্ত করা এবং পরিত্রাণের উপায় বের করা জরুরী। এটাই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।"

সমাজবিজ্ঞানী ড. মারগী কের বলেছেন, "ভয়ের কারণ দ্রুত শনাক্ত করা এবং পরিত্রাণের উপায় বের করা জরুরী। এটাই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।"

বেশিরভাগ সময় মানুষ ভয় পেলে 'ফাইট অর ফ্লাইট' অর্থাৎ ভীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়ে সেটা সামলাোর চেষ্টা করে অথবা সে পরিস্থিতির মুখে পালিয়ে যায় বা সম্পূর্ণ এড়িয়ে যায়।এ সময় মানুষের হৃদপিণ্ডের গতি বেড়ে যায়, যা ক্রমেই বাড়তে থাকে।

তবে, অনেকেই ঐ পরিস্থিতি সাহসের সাথে মোকাবেলা করে থাকেন। কেউ আবার ঘটনার আকস্মিকতায় চমকে যান, লাফিয়ে ওঠেন।এর কারণ মূলত যে ধরণের ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে সে সম্পর্কে প্রস্তুতি নেবার মত যথেষ্ট সময় পায়নি আপনার মস্তিষ্ক, কিন্তু আচমকা এবং বিকট ভাবেই সে পরিস্থিতির সামনে পড়েছেন আপনি।


তাছাড়া কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত ভয় পাওয়ার পিছনে থাকতে পারে অতীতের কোনো ঘটনা। যেসকল জিনিসকে মানুষ ভয় পায়, তার সাথে অতীতের সেই ঘটনা মিলিয়ে সে এক মানসিক যন্ত্রণার বা অস্বস্তির মধ্যে পড়ে।সেই মানসিক যন্ত্রণা থেকে তৈরি হওয়া আতঙ্ককের যাকে আমরা ফোবিয়া বলে থাকি এটি একটি মানসিক রোগ।আবার অনেক সময় ফোবিয়া অন্যান্য রোগের উপসর্গও হতে পারে।

ভয়কে জয় করবেন যেভাবে 😀

ভয়ের কারনে শরীরে কি কি পরিবর্তন আসে? মানসিক ভয় দূর করার উপায়

ভয়ের কারনে শরীরে কি কি পরিবর্তন আসে? তা কোনো অজানা পরিস্থিতি অথবা যখন আমাদের নিরাপত্তা কোনো হুমকির মুখে এ ধরনের কোনো বিষয় যখন আমাদের চিন্তায় আসে,তখন আমাদের শারীরিক এবং মানসিক কিছু পরিবর্তন ঘটে। 

বিবর্তনের ধারায় মানুষের শরীর এবং মানসিক এ পরিবর্তনগুলোর একটি নির্দিষ্ট ধারা তৈরি হয়ে আছে।এ পরিবর্তনসমূহের মাধ্যমেই মানুষ পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক হয় এবং নিজের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে পারে।

ভয় ও জড়তা দূর করার উপায় জানা খুব জরুরি; ভয়ের কারনে রীরে যে পরিবর্তনগুলো ঘটে, তাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়, যেমন- শারীরিক এবং মানসিক। শারীরিক পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে- মাথা ব্যথা, মাথার ভেতর হালকা মনে হওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা, ঘাড় ব্যথা, মুখ শুকিয়ে আসা বা পিপাসা লাগা,কাঁপুনি হওয়া,হাত-পা ঠান্ডা অথবা অবশ হয়ে আসা,বুক ধড়ফড় করা,হৃৎস্পন্দন দ্রুত হওয়া, শ্বাসকষ্ট, প্রস্রাব আটকে যাওয়া,পাতলা পায়খানা,পেটে ব্যথা,পেটের ভেতর অস্বস্তিভাব, ঘুমের ব্যাঘাত ইত্যাদি।


আর মানসিক পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে- মনোযোগে ব্যাঘাত, সিদ্ধান্তহীনতা, অনিশ্চয়তার আশঙ্কা, মৃত্যুভয়, স্মরণশক্তি হ্রাস, অকারণেই বিরক্ত বোধ করা, শব্দের প্রতি অতিরিক্ত স্পর্শকাতরতা, অস্থিরতাসহ প্রভৃতি নানা উপসর্গ।

ভয় দূর করার উপায়। বাচ্চাদের ভয় দূর করার উপায়

ভয় দূর করার উপায় সম্পর্কে বিবিসির উক্ত প্রতিবেদনে আরো জানানো হয় যে,মনোবিজ্ঞানী ড. ম্যানসেল বলছেন, আপনি যদি খুব সহজেই চমকে যান, কিংবা বিশেষ কোন ভীতি বা ফোবিয়া থাকে আপনার, তাহলে তা থেকে পরিত্রাণ পেতে আপনি নিজে কিছু জিনিস চর্চা করতে পারেন, আবার প্রয়োজনে একজন থেরাপিস্টের সাহায্য নিতে পারেন।

এর প্রথম ধাপ হচ্ছে, নিজের মনকে প্রস্তুত করা, মানে আপনি জানেন বিশেষ কোন পরিস্থিতি আপনাকে বিব্রত করে, সুতরাং এখনই তার মুখোমুখি না হয়ে, আপনার মন পুরোপুরি তৈরি হবার পরই আপনি তার মোকাবেলা করুন।যেমন অনেকের উচ্চতা ভীতি রয়েছে, তাদের উচিত একটু একটু করে মনকে প্রস্তুত করা।


আর ড. কের মনে করেন,এজন্য প্রয়োজনে এক্সপোজার থেরাপি, কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি এবং ব্রিদ্রিং এক্সারসাইজ করা যেতে পারে।কিছু ক্ষেত্রে ব্যায়ামও উপকার করে বলে তিনি মনে করেন।কিন্তু সবকিছুর পরেও আচমকা মাকড়সা দেখলে, বা উঁচু কোন ভবনের ছাদে কোন ক্লাউন দেখে চমকে উঠবেন না এমন মানুষ কমই আছে।

কিন্তু তেমন ঘটনা সচরাচর ঘটেই বা কদিন?

সুতরাং ভয় ও জড়তা দূর করার উপায় হচ্ছে, অত ভয় পেয়ে সারাক্ষণ সিটকে থাকার হয়ত কিছু নেই—এই বলুন মনকে এই বেলা।

ভয় দূর করার ওষুধ। মনের ভয় দূর করার ঔষধ

যদি কোন বস্তু অথবা পরিস্থিতি আপনার মধ্যে ভয় ফোবিয়া অথবা অনেক ভয়ের অনুভূতি সৃষ্টি করে তাহলে ভয় দূর করার ওষুধ বলতে,প্রথম কর্তব্য হলো আপনার যে, উক্ত বিষয়টি নিয়ে কারও সাথে আলোচনা করা।সে বন্ধু হতে পারি অথবা আপনার কোনো ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্য।

দ্বিতীয়তঃ শান্ত হওয়ার কিছু প্রক্রিয়া আছে যেমন,রিলাক্সেশন টেকনিক,ইয়োগা,ধ্যান অথবা শ্বাসক্রিয়ার হার নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতির সাহায্যে আপনি দেহকে শান্ত হতে শেখাতে পারেন।যদি কোন প্রফেশনাল ব্যক্তির সাহায্য নিতে চান তবে আপনার চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। 

আপনার ভয় এবং তার তীব্রতা নির্ণয় করার পরে তিনি আপনাকে চিকিৎসা প্রণালীবিধি জানাবেন।ভয় দূর করার ওষুধ হলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফোবিয়া অথবা ভয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ওষুধের প্রয়োজন হয় না। যেসকল চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে ফোবিয়া অথবা এর জন্য তা হলো;

১। কাউন্সেলিং অর্থ লাভের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ভয়ের উৎসের মুখোমুখি হওয়া এবং সমস্যাটি সম্বন্ধে চিন্তা প্রক্রিয়ার পরিবর্তন ঘটানো।
২। ভয়ের কারণে শরীর যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হয় সেগুলোর প্রতিরোধের ওষুধ ব্যবহার করা।
৩। একই ফোবিয়ায় আক্রান্ত অন্যান্য মানুষদের সাথে গ্রুপ থেরাপি নেয়া।
৪। কগনিটিভ বিহেভিয়ারল থেরাপি নেয়া।
৫। ইয়োগা ধ্যান জাতীয় রিলাক্সেশন থেরাপি নেয়া।

ভয় দূর করার দোয়া! মুখের জড়তা দূর করার দোয়া

ভয় দূর করার দোয়া বা আমল বলতে, যে কারণে আপনি ভয় পাচ্ছেন তা উল্লেখ করে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া।মনের ভয়ের সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে,আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্কের দুর্বলতা অথবা আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও তাওয়াক্কুলের ভরসা কমে যাওয়া। 

একজন ঈমানদার ব্যক্তি সব সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহর উপর ভরসা রাখেন। এতে করে সে যেকোনো পরিস্থিতিতে ভীত না হয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারেন।

কোরআনের আয়াতে উল্লেখিত আছে যে "আল্লাহ বলেন, মনে রেখো যারা আল্লাহর বন্ধু,তাদের কোন ভয় নেই,তারা চিন্তান্বিত হবেনা।"(সূরা-ইউনুস,আয়াতঃ৬২)

তাই সর্বদা আল্লাহর উপর বিশ্বাস এবং একাগ্রতা প্রকাশ করার মাধ্যমে ভয় থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন," আর যে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।"(সূরা- তালাক, আয়াতঃ৩)


এছাড়াও ভয় হতে মুক্তির জন্য কিছু সহজ দোয়া রয়েছে। এগুলো বিশেষ করে ভয়ের মুহূর্তে বা পরিস্থিতিতে যথাসময়ে পড়লে উপকার পাওয়া যেতে পারে। এতে করে আল্লাহর সাথে সম্পর্কের উন্নতি হতে পারে, তাওয়াক্কুল এও ভরসা বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের মনের ভয় দূর হয়ে যাতে পারে।(ইনশাআল্লাহ)

১ম দোয়াঃ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ

উচ্চারণঃ "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আযিমুল হালিম। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আযিম। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরদ্বি ও রাব্বুল আরশিল কারিম।"

অর্থঃ "মহান ও মহা-ধৈর্যশীল আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। মহান আরশের রব আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। আসমানসমূহ ও জমিনের রব এবং মহান আরশের রব আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই।"

২য় দোয়াঃ بِسْمِ اللّهِ الَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِه شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণঃ"বিসমিল্লাহিল্লাযি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামাই ওয়াহুয়াস সামিউল আলিম।"

অর্থঃ"আল্লাহর নামে,যার নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না,তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।"

ফজিলতঃ উসমান ইবনে আফ্ফান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) বলেছেন,যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে ও প্রতি সন্ধ্যায় অথবা রাতে তিনবার এই দোয়াটি পাঠ করবে, কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না। (তিরমিজি, হাদিস নম্বর ৩৩৮৮)

পরীক্ষায় ভয় দূর করার উপায়। অহেতুক ভয় দূর করার উপায়

পরীহ্মা শব্দটি শুনলেই যেন বুকের ভেতরটা চমকিয়ে উঠে!আমরা অনেকেই আছি যারা পরীহ্মার কথা শুনলেই দুশ্চিন্তাই পরে যায় এবং অন্যরকম ভয় কাজ করতে শুরু করে দেয় মাথার মধ্যে।পরীহ্মার আগে ভয়ের কারণ হচ্ছে,আমরা মূলত অতিরিক্ত আশা করে ফেলি এবং এই আশার ফলে মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়।

আসা কমলেও চাপ কমবে পরীক্ষার ভয়ও কমে যাওয়া সম্ভব রয়েছে।পরীক্ষার ভয় দূর করার উপায় বা কমানোর জন্য সব থেকে ভালো মাধ্যম হল আগে থেকে নিয়ম অনুযায়ী পড়াশোনা করা।যদি বছরের শুরু থেকেই নির্দিষ্ট রুটিন অনুযায়ী লেখাপড়া করা যায় তাহলে পরীক্ষার আগে এই ভয় কাজ করে না।
পরীক্ষার ভয় দূর করার উপায়ঃ
  1. পরীহ্মার জন্য শুরু থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে,পরীহ্মার সময় ভয় অথবা নার্ভাসনেসটা অনেকটা কম হয়।
  2. আপনি কিসে বা কোন বিষয়ে বেশি দুর্বল তা নিয়ে আগে থেকে প্রস্তুতি নেয়া।
  3. পরীহ্মার আগের রাতে ঘুম নষ্ট করে মটেও পড়তে বসবেন না।এতে করে আপনি ক্লান্ত হয়ে থাকবেন আর আপনার ভিতরের ভই বেশি কাজ করবে।
  4. পরীক্ষা ভীতির বিরুদ্ধে আপনার প্রথম অস্ত্র হবে – নিজের প্রতি এক ইতিবাচক মনোভাব।
  5. বিরতিহীনভাবে পড়ালেখা করাও বোকামি। পরীক্ষার আগে ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করতে হবে, পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। পড়ার ফাঁকে একটু একটু বিশ্রাম নেওয়া, বিরতি নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। একনাগাড়ে পড়তে থাকলে মনের ওপর, মাথার ওপর চাপ পড়ে।

মুখের জড়তা কি?

মুখের জড়তা কি? বলতে বুঝায় যে,খুব তাড়াতাড়ি কথা বলতে অসুবিধা হয় অথবা কথা বলার সময় আটকে যাওয়া অথবা শব্দ খুঁজে না পাওয়া।বিশেষ করে মস্তিষ্ক যখন কোন বিষয় নিয়ে নার্ভাস থাকে তখন কথা বলার সময় এধরনের জড়তা লহ্ম্য করা যায়।আবার অনেক সময় কথাই বন্ধ হয়ে যায়।

এই ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারনত শ্বাস-প্রশ্বাস ও গলার স্বরে পরিবর্তন দেখা যায়। মানুষের শরীরের গঠনও এখানে অনেকটা দায়ী বলে মনে করা হয়।


চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্যানুসারে স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের উপর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানানো হয় যে,‘ভোকাল ফোল্ডস’ নামক এক ধরনের ত্বক-কোষ আমাদের বায়ুনালী পরিবেষ্টিত রাখে।যার কাজ হল এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবিলা করা।

যেমন শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা, বাতাসে চাপ, মানসিক চাপ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে পানি নিয়ে নেওয়া থেকে সুরক্ষা দেয় এই ‘ভোকাল ফোল্ড’।

জনসম্মুক্ষ্যে কিছু বলতে গিয়ে যখন প্রচণ্ড চাপ অনুভব করলে স্বরতন্ত্রী সক্রিয় হয়। ‘ফাইট অর ফ্লাইট রেসপন্স’ অর্থা ‘মারো কিংবা মর’ এই ধরনের পরিস্থিতিতে স্বরতন্ত্রীর চারপাশের পেশি সঙ্কুচিত হয়ে খুলে যেতে কিংবা বন্ধ হতে চাপ প্রয়োগ করে। 

ফলে কথা বলা ও গলার স্বর প্রভাবিত হয়।যে কারণে কথা আটকে যায়, বলতে কষ্ট হয়, যা আরও মানসিক চাপ বাড়ায়। এই কারণে শরীর কাঁপে, ঘামতে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘স্প্যাজমোডিক ডিসফোনিয়া’।

গলা কাঁপার কারণেও কথা বলায় সমস্যা দেখা দেয়। যে কারণে মানুষের আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং মানসিক অস্বস্তিজনীত সমস্যাগুলোও অনুভতি সৃষ্টি হতে শুরু করে। কারও ক্ষেত্রে এই সমস্যা অত্যন্ত গুরুতর হয়, কথা আটকে যেতে পারে প্রতিটি শব্দে। এই সমস্যাগুলো পুরোপুরি মানসিক নয়।

যিহোবার জড়তা দূর করার উপায়

মুখের জড়তা মতোই যিহোবার জড়তা।বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যা থেকে রহ্মার জন্য সহজ একটি অনুশীলন করার পরামর্শ দেন, যা আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।

অনুশীলনটি হল যে কোনো এক হাতের তর্জনী মুখের কয়েক ইঞ্চি দুরে ধরে রাখতে হবে। এবার একটি লম্বা দম টানতে হবে। দম যখন ঠেলে বেরিয়ে আসতে চাইবে তখন দম ছাড়ার সময় পাঁচ থেকে ১০ সেকেন্ড সময় ধরে ‘উহ হু’ শব্দটি করতে হবে।

সাধারণ সময় ছাড়াও জনসম্মুখে দাঁড়ানোর আগে তিন থেকে চার বার এই অনুশীলন করতে পারেন।

অনুশীলনটির বর্ণণা শুনতে খামখেয়ালি মনে হলেও এর মাধ্যমে স্বরতন্ত্রী খুলে যাবে। আর লম্বা শ্বাস-প্রশ্বাসের কারণে ‘ভোকাল ফোল্ড’ শিথিল হবে। কথার বলার জড়তা কমবে, বায়ু চলাচল সুগম হবে, কণ্ঠ হবে বলিষ্ঠ। কথা বলার সময় জড়তা দেখা দিলে সেখানেও লম্বা দম নেওয়া উপকারী হবে। এতে হৃদস্পন্দন মন্থর হবে।

কথার জড়তা দূর করার উপায়। কথা বলার ভয় দূর করার উপায়

একটি পরিষ্কার কাঠপেন্সিল মুখে নিন। দুই পাটির দাঁত দিয়ে সমান্তরালভাবে কামড়ে ধরে পড়া শুরু করুন,যতক্ষণ আপনার ভালো লাগে।
  1. যিহোব্বাকে সামনের দিকে টান টান করবেন,যতটা পারা যায়।
  2.  ভেতরের দিকে টেনে নিয়ে যান,যতটা সম্ভব।
  3. মুখ হা করে জিহ্বাকে টান টান করে চারিদিকে ঘুরাতে থাকুন। প্রথমে ঘড়ির কাটার দিকে কিছুক্ষণ।পরে ঘড়ির কাটার বিপরীতে কিছুক্ষণ।
  4. মুখ বন্ধ করে চারিদিকে যিহোব্বাকে ঘুরাতে থাকুন। প্রথমে ঘড়ির কাটার দিকে কিছুক্ষণ।পরে ঘড়ির কাটার বিপরীতে কিছুক্ষণ।
  5.  যিহোব্বা কে চুইংগাম-এর মত চিবোতে থাকুন। ডানে বায়ে ঘুড়িয়ে।যতক্ষণ ভাললাগে।
  6.  যিহোব্বা কে মুখের বাইরে তড়িৎ গতিতে ছুড়ে মারুন। এভাবে করতে থাকবেন কিছুক্ষণ।
  7. মুখ হা করুন,যত বড় করা যায়।
  8. মুখ গোল করে ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরান।এভাবে প্রতিদিন কয়েকবার করে করবেন।

গুছিয়ে সুন্দর করে কথা বলার ১০টি সহজ নিয়ম

সুন্দর করে বা গুছিয়ে কথা বলাও একটি সচ্ছ আবেগের বিষয়।সেক্ষেত্রে আপনাকে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।তা হলোঃ 
  1. সব সময় শান্ত থাকুন,চুপ করে থাকার অভ্যস করুন।
  2. প্রথমেই খুব মন দিয়ে অন্যের কথাগুলো শুনুন। এটি করা ছাড়া কোনো দিনই আপনি সুন্দর ভাবে অন্যের কথার প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করতে পারবেন না।
  3. অন্যের কথায় যথেষ্ট প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করুন (যেমন "হু" বা "হ্যাঁ") এই ধরনের।কিন্তু সেটা যেন অতিরিক্ত না হয়।
  4. বেশি কথা বলা বা একেবারেই কম কথা বলা লোকজনকে অধিকাংশ মানুষই পছন্দ করে না।তাই বেশি কথা বলা বা একেবারেই চুপ করে থাকার অভ্যাস ত্যাগ করুন।
  5. আপনি যার সাথে কথা বলছেন সে যদি আপনার ছোট হয়।তবে তাকে তার নাম সুন্দর ভাবে উচ্চারণ করে সম্ভোধন করুন।আর বড় হলে এই ভাবে বলুন যে " হামজা ভাই" বা "মিম আপু" এমন করে।মনে রাখবেন মানুষ তার নিজের নামটি শুনতে সবথেকে বেশি পছন্দ করে।এতে ওই ব্যাক্তি মধ্যে আপনার প্রতি ভালো ধারণা জন্ম নেবে।
  6. কথা বলার সময় মুখ আর মস্তিষ্কের মধ্যে সমন্বয় আনার চেষ্টা করুন।কথা শুরুর আগে কী বলবেন, তা গুছিয়ে নিন, প্রয়োজনে টুকরো কাগজে লিখে নিন।
  7. আপনি যাঁর সাথে কথা বলছেন, তিনি কথা বুঝতে পারছেন কি না,সেদিকে মনোযোগ দিন।
  8. আপনি কী বলছেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার শ্রোতা কী শুনছেন বা কী বুঝছেন।
  9. আপনার কথায় আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। শ্রোতার মুখ ও শরীরের অভিব্যক্তি দেখে শ্রোতাকে বুঝতে চেষ্টা করুন।
  10. যখন আপনি কারোর সাথে কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলা শুরু করবেন তখন অন্যকে বলার থেকে বরং সেই বিষয়ে আপনার শ্রোতাদের কী অভিমত তা শোনার চেষ্টা করুন।

ভয় ও জড়তা দূর করার উপায় নিয়ে জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর । FAQs

প্রশ্নঃ জড়তা দূর করার উপায় কি ?

উত্তরঃ জরতা দূর করার উপায় কোন ঔষধ নয়,এটি একটি মানসিক ব্যাধি যা মানসিক ডাক্তারের কিছু সেসন ও সামাজিক অভ্যাসের পরিব্ররতনের মাধ্যমে নিরাময় করা যায়। 

প্রশ্নঃ মুখের জড়তা কি?

উত্তরঃ মুখের জড়তা এমন একটি অবস্থা যার কারনে একজন ব্যক্তি কথা বলার সময় তার কথাগুলো আটকিয়ে বা বেধে বেধে যায়। এটি হয়  যখন টিস্যুর ক্ষুদ্র স্ট্রিপ বড় থেকে ছোট হয়।   
 
প্রশ্নঃ নার্ভাস দূর করার উপায় কি?

উত্তরঃ নার্ভাস দূর করার একটি ভালো উপায় হচ্ছে আপনার নিঃশ্বাস আস্তে আস্তে বড় করে নিন এবং একই নিয়মে ত্যাগ করুন। এই প্রক্রিয়াটি আপনার মাস্তিস্ককে কিছুটা শান্ত করতে পারে এবং নার্ভেসনেস কমায়।  

লেখকের মন্তব্যঃ ভয় দূর করার উপায় - মানসিক ভয় দূর করার উপায় জানুন

আরো কথা ছিলো কিন্তু অনেক লিখা হয়ে যায়।তাই আপনাকে খুব সংক্ষেপে বলি।সুন্দর ভাবে কথা বলা শুধু নিজে থেকে হয় না।অন্য ব্যাক্তির আপনার প্রতি আগ্রহের একটা ব্যাপার থাকতে হবে।আর থাকতে হবে তার থেকে কথা শুনার সৎ ইচ্ছা।যা আপনাকে উপরে উল্লেখিত কাজ গুলো করার মাধ্যমে সৃষ্টি করে নিতে হবে।😊 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url